নামাযের সময়
👉নামাযের সময়👈
💓ফজরের পর নিষিদ্ধ সময়ের পরিমাণ
জিজ্ঞাসাঃ
ফজরের পরে বেলা উঠা আরম্ভ হওয়ার পরে কতক্ষণ বা কত মিনিট নামায পড়া নিষেধ? প্রচলিত ক্যালেন্ডারে যে ২৩ মিনিট বিলম্ব করার কথা লেখা থাকে তার ভিত্তি কি?
জবাবঃ
ফজরের পরে সূর্য উঠা আরম্ভ হওয়ার পর থেকে এক তীর পরিমাণ (যার পরিমাণ নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী ৯ মিনিট) নামায পড়া নিষেধ। তবে প্রচলিত ক্যালেন্ডারে সতর্কতার জন্য কিছু বেশী বিলম্বের কথা লিখা হয়েছে। হযরত মাওলানা আবরারুল হক সাহেব হারদুয়ী রহ. ১৫ মিনিট বিলম্বের কথা বলে থাকেন। আমলের জন্য এটাই উত্তম। [প্রমাণঃ আহসানুল ফাতাওয়া, ২:১৪১ # ফাতাওয়া মাহমূদিয়া, ২:২৩৮ # শামী, ১:৩৬৬-৭১]
💓 সূর্যোদয়ের ২/৩ মিঃ পর নামায শেষ হলে
জিজ্ঞাসাঃ
সূর্যোদয়ের ১০/১২ মিনিট পূর্বেই ফজরের নামাযের জামা‘আত শুরু করা হলেও নামায শেষ হওয়ার পর দেখা গেল ২/৩ মিনিট পূর্বেই সূর্যোদয় হয়ে গেছে। এখন এ নামায সহীহ হবে কি?
জবাবঃ
নামায শেষ করার পর যদি জানা যায় যে, নামাযের মধ্যেই সূর্যোদয় হয়ে গেছে, তাহলে নামায ফাসিদ (নষ্ট) পরিগণিত হবে। তবে সে অবস্থায় নামাযীর জন্য সূর্য ভালভাবে উঠার (অর্থাৎ সূর্য উঠার ১০/১৫ মিনিট ) পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাযা নামায পড়ে নেয়া ফরয। সুতরাং উল্লেখিত অবস্থায় হানাফী মাযহাব অনুযায়ী সকলের নামায ফাসিদ হয়ে গেছে। কারো নামায সহীহ হয় নি।
ইমাম সাহেবের কর্তব্য মসজিদে এলান করে দেয়া যে, অদ্যকার বা অমুক তারিখের ফজরের নামায সহীহ হয়নি। সুতরাং যারা উক্ত তারিখের ফজরের জামা‘আতে উপস্থিত ছিলেন, সকলেই কাযা করে নিবেন। অথবা নির্দিষ্ট এক সময় সকলে মিলে জামা‘আতের সাথে কাযা আদায় করা ভাল। [প্রমাণঃ ফাতাওয়া শামী, ১:৩৭৩ # ফাতাওয়া দারুল উলুম, ৪:৪৭]
💓 ইশার নামাযের ওয়াক্ত
জিজ্ঞাসাঃ
আমি যদি ইশার নামায মাগরিবের ৩০ মিনিট অথবা ২০ মিনিট পর পড়ে নেই, তাহলে আমার নামায হবে কি-না?
জবাবঃ
যদি কেউ মাগরিব নামাযের ৩০ মিনিট অথবা ২০ মিনিট পর ইশার নামায আদায় করে তাহলে ইশার নামায সহীহ হবে না। সূর্য অস্ত যাওয়ার ১ ঘন্টা ১৫ মিনিট পর ইশার নামায আাদায় করতে হবে। কেননা তার পূর্বে অনেক মৌসুমে ইশার নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয় না। [প্রমাণ: দারুল উলুম, ২:৫২ # আহসানুল ফাতাওয়া, ২:১৩০]
💓 ৬ মাস দিন ৬ মাস রাত নামায আদায়ের পদ্ধতি
জিজ্ঞাসাঃ
উত্তর মেরুতে ও দক্ষিণ মেরুতে ৬ মাস দিন এবং ৬ মাস রাত থাকে। সেখানকার মুসলমানগণ পাঁচ ওয়াক্ত নামায কিভাবে আদায় করবে?
জবাবঃ
এরূপ অঞ্চলে অনুমান করে নামায পড়তে হবে। অর্থাৎ প্রতি ২৪ ঘন্টায় পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়তে হবে। পার্শ্ববর্তী দেশে কোন ওয়াক্ত নামায থেকে কোন ওয়াক্ত নামাযের ব্যবধান কতটুকু, তা জেনে নিয়ে উপরোক্ত অঞ্চলের অধিবাসীদের আঞ্চলিক সময় ভাগ করে সেভাবে নামায আদায় করে নিতে হবে। এতদসম্বন্ধীয় একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, দাজ্জালের আবির্ভাব কালে প্রথম দিন হবে এক বৎসরের সমান। তখন হুজুর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবারে সাহাবায়ে কিরামগণ নামায পড়ার ব্যপারে জানতে চাইলেন। অর্থাৎ এ সময়ে আমরা নামায আদায় করবো কিভাবে ? হুযূর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন, আন্দায (অনুমান) করে উক্ত এক বৎসরের সমান একদিনের মধ্যে পূর্ণ এক বৎসরের নামায আদায় করে নিতে হবে। [প্রমাণঃ আহসানুল ফাতাওয়া, ২:১১৫]
💓 ফজরের সুন্নাতের সময় ও ক্বাযার হুকুম
জিজ্ঞাসাঃ
ফজরের সুন্নাত নামায কি অবশ্যই ফরজ নামাযের আগে পড়তে হয়? কোন অবস্থাতেই কি ফজরের পরে পড়া যায় না।
জবাবঃ
ফজরের সুন্নাত ওয়াজিবের নিকটবর্তী এবং জামা‘আতের সাথে নামায পড়াও ওয়াজিব। সুতরাং উভয়টাকে ঠিক রাখা সম্ভব হলে সেটাই করতে হবে। আর যদি উভয়টা ঠিক রাখা না যায়, তাহলে জামা‘আতকে প্রাধান্য দিতে হবে। যদি সুন্নাত পড়ে ফজরের ফরযের দ্বিতীয় রাকা‘আত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে মসজিদের বারান্দায় বা জামা‘আতের কাতার ছেড়ে পিছনে কোন কাতারে গিয়ে দু’রাকা‘আত সুন্নাত আদায় করে নিবে। তার পরে জামা‘আতে শরীক হবে। আর যদি সুন্নাত পড়তে গেলে ফরযের উভয় রাকা‘আত ছুটে যাওয়ার আশংকা থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে সুন্নাত ছেড়ে জামা‘আতের সাথে ফরজ পড়ে নিবে । সুন্নাত পড়ার প্রয়োজন নেই। তবে যদি কেউ ছুটে যাওয়া সুন্নাত পড়তে চায়, তাহলে সূর্য উদয়ের পরে পড়তে পারবে এবং তা এক্ষেত্রে নফল হবে। কিন্তু ফরজের পরে সূর্য উদয়ের পূর্বে কোন ধরনের সুন্নাত বা নফল নামায পড়তে পারবে না। [প্রমাণঃ হিন্দিয়া, ১:১২০ # রহীমিয়া ৩:৪৭ # দারুল উলুম, ৪:২০৪]
💓 যুহরের শেষ ও আসরের শুরু ওয়াক্ত
জিজ্ঞাসাঃ
যুহরের নামাযের শেষ ওয়াক্ত ও আসরের নামাযের শুরু ওয়াক্ত আমরা কিভাবে নির্ধারণ করতে পারি?
জবাবঃ
দাঁড়িয়ে থাকা প্রত্যেকটি বস্তুর ছায়ায়ে আসলী (অর্থাৎ ঠিক দুপুরের সময় প্রত্যেক বস্তুর নিজস্ব ছায়া) ব্যতীত ২ মিছল (দ্বিগুন পরিমাণ) হওয়া পর্যন্ত যুহর নামাযের সময় বাকী থাকে। এরপর থেকেই আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যায়। এছাড়া নামাযের সময়সূচী বিষয়ক স্থায়ী ক্যালেন্ডার দেখেও উক্ত দুই নামাযের সময় জানতে পারেন। তা আমাদের দেশের সর্বত্রই পাওয়া যায়। [প্রমাণঃ হিদায়াহ, ১:৮১ # শরহে বিকায়াহ, ১:১২৮]
💓 সূর্যোদয়ের আগে ফজরের নামায ছাড় অন্য নামায পড়া যাবে কি-না?
জিজ্ঞাসাঃ
ফজরের আযানের পর থেকে সূর্য উদয় পর্যন্ত ফজরের চার রাকা‘আত ফরজ নামায ব্যতীত অন্য কোন নামায যেমন উমরী কাযা, দুখুলুল মাসজিদ ও নফল নামায পড়া যাবে কি-না?
জবাবঃ
হানাফী মাযহাব অনুযায়ী সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্য উঠার আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে উক্ত দিনের ফজরের ফরয ও সুন্নাত নামায ব্যতীত আর অন্য কোন নফল নামায পড়া জায়িয নয়। তাবে কাযা নামায পড়া জায়িয। তাও মসজিদে না পড়ে বাড়ীতে পড়ে নেওয়াই উত্তম। [প্রমাণঃ ফাতাওয়া রহীমিয়া ৪:২৮৪ পৃঃ # কিফায়াতুল মুফতী, ৩:২৬ পৃঃ # ফাতাওয়া দারুল উলূম ২:৬৯, ৭০, ৭১]
💓 ইশার নামাযের শেষ সময়
জিজ্ঞাসাঃ
ইশার নামাযের সর্বশেষ সময়সীমা রাত কয়টা পর্যন্ত? রাত ১.৩০ মিনিটে ইশার নামাযের জামা‘আত করলে তা শুদ্ধ হবে কি-না?
জবাবঃ
সূর্যাস্তের পর পশ্চিমাকাশে সাদা আভা দূর হবার পর থেকে সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত ইশার ওয়াক্ত থাকে। তবে রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করে ইশা পড়ে নেওয়া মুস্তাহাব। এবং এটিই ইশার নামাযের মুস্তাহাব ওয়াক্ত। অর্ধেক রাত পর্যন্ত শর‘ই ওযর ব্যতীত ইশার নামায বিলম্বিত করে পড়লে তা মাকরূহ হবে। ১.৩০ মিনিট যেহেতু রাত্র দ্বিপ্রহরের পরের সময়। অতএব বিনা উযরে সে সময় ইশার নামায একাকী পড়া বা জামা‘আতের সাথে পড়া মাকরূহ।


No comments